মঙ্গলবার,  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

 

২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ ,  ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভাওয়ালের কন্ঠ :: Bhawaler Kontho - ভাওয়ালের খবর

মুসলিম সংস্কৃতি ও কাতারের ঐতিহ্যের মিশেল আল-থুমামা স্টেডিয়াম

প্রকাশিত: ২১:১৬, ২০ নভেম্বর ২০২২

মুসলিম সংস্কৃতি ও কাতারের ঐতিহ্যের মিশেল আল-থুমামা স্টেডিয়াম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বেশি উন্মাদনার সৃষ্টি করে ফুটবল বিশ্বকাপ। ফুটবলের জনপ্রিয় বৈশ্বিক এই আসরকে বলা হয় 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'।  

এবার কাতারের মাটিতে বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২২তম আসর। এই আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী সমর্থকদের উদ্দীপনা। 

এবারের আসরের ম্যাচগুলো হবে কাতারের আটটি স্টেডিয়ামে। নয়নাভিরাম আটটি স্টেডিয়ামের দিকে চোখ রেখেছে 'ডেইলি বাংলাদেশ'।

পাঠকদের জন্য আজ থাকছে আসরের অন্যতম ভেন্যু আল-থুমামা স্টেডিয়াম।

 

আল-থুমামা স্টেডিয়ামবিশ্বকাপকে সামনে রেখে কাতারে নির্মিত স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে একটু বিচিত্রধর্মী স্টেডিয়াম আল থুমামা স্টেডিয়াম। এটি কাতারের রাজধানী দোহা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে আল-থুমামা শহরেই অবস্থিত। শহরের নামের সাথে মিল রেখে একে আল-থুমামা স্টেডিয়াম নামেই ডাকা হয়। 

বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতার যে ৮টি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে তার মধ্যে অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত একটি স্টেডিয়াম এটি। এটার বিশেষত্ব হলো, আরব অঞ্চলের মুসলমানদের সংস্কৃতি এবং কাতারের ঐতিহ্যের মিশেলে নির্মাণ করা হয়েছে এই স্টেডিয়ামটি। দূর থেকে পাখির চোখে দেখলে মনে হবে মাটিতে একটি টুপি পড়ে আছে।

 

আল-থুমামা স্টেডিয়াম

 

এই স্টেডিয়ামটি টুপির আদলের ডিজাইনে নির্মাণ করা হয়েছে। আসলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী সাদা রংয়ের টুপি ‘গাহফিয়া’র আদলে তৈরি। গাহফিয়া মধ্যপ্রাচ্যের একটি জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী টুপি। এই টুপি পরিধানের মধ্যে দিয়েই সেই অঞ্চলের যুবকরা নিজেদের আত্মসম্মান এবং মর্যাদা রক্ষা করেন।

আল-থুমামা স্টেডিয়ামের পুরো এলাকাজুড়ে অজস্র গাছ রোপণ করা হয়েছে। যা কিনা স্টেডিয়ামটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে আরো কয়েকগুণ। পুরো স্টেডিয়াম এলাকাজুড়ে ৫০ হাজার বর্গমিটারের বিশাল সবুজ পার্ক দর্শকদের এক আলাদা জগতে নিয়ে যাবে। এছাড়া স্টেডিয়ামটি নির্মাণেও সব পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। 

৪০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় ২০১৭ সালে। আর ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর আল সাদ বনাম আল রায়ানের মধ্যকার আমির কাপের ফাইনাল দিয়ে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ২০২১ সালের আরব কাপের ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এই স্টেডিয়ামটিতে। 

 

আল-থুমামা স্টেডিয়াম

 

বিশ্বকাপ শেষে বাকি স্টেডিয়ামগুলোর মতো এটারও ধারণক্ষমতা কমিয়ে ২০ হাজারে নামিয়ে আনা হবে। সেই স্থানে নির্মাণ করা হবে বুটিক হোটেল, স্পোর্টস ক্লিনিকসহ প্রয়োজনীয় সব স্থাপনা। আর বাকি আসনগুলো দান করা হবে স্বল্পোন্নত এবং অনুন্নত দেশগুলোর ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামোগত উন্নয়নে। 

হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খুব কাছেই আল-থুমামা স্টেডিয়ামটির অবস্থান। তাই দর্শকরা খুব সহজেই স্টেডিয়ামে যাতায়াত করতে পারবেন। এছাড়া ম্যাচ চলাকালীন দোহা মেট্রো স্টেশন এবং শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ফিফার এসি বাস সার্ভিস চলাচল করবে যাতে দর্শকেরা খুব সহজেই প্রিয় দলের ম্যাচ উপভোগের জন্য স্টেডিয়ামটিতে আসতে পারেন। 

এই স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের একটি ম্যাচসহ বিশ্বকাপের মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন:

সর্বশেষ

সর্বাধিক জনপ্রিয়