মঙ্গলবার,  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

 

২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ ,  ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভাওয়ালের কন্ঠ :: Bhawaler Kontho - ভাওয়ালের খবর

বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ জানলেন গার্মেন্ট কর্মীরা

গাজীপুর জেলা শুভসংঘ

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ১৯ নভেম্বর ২০২২

বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ জানলেন গার্মেন্ট কর্মীরা

গাজীপুর শুভসংঘের ‘রক্তযোদ্ধা’ বন্ধুরা উপস্থিত হয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার কাশপিয়া প্যাকেজিং কারখানার শ্রমিকদের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করেন

কাশপিয়া প্যাকেজিং কারখানার শতাধিক শ্রমিকের কেউ জানতেন না তাদের রক্তের গ্রুপ। জানতেন না রক্তদানের উপকারিতা সম্পর্কেও। জানতে পেরে শনিবার গাজীপুর শুভসংঘের ‘রক্তযোদ্ধা’ বন্ধুরা উপস্থিত হয় গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার ওই কারখানায়। দিনব্যাপী চলে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কাজ।

ফাঁকে ফাঁকে উৎসাহমূলক আলোচনা হয় রক্তদানে। পুরো টিমের নেতৃত্ব দেন শুভসংঘের গাজীপুর জেলা সভাপতি মুসাফির ইমরান। আর এ কাজে শুভসংঘকে সার্বিক সহযোগিতা করেন কাশপিয়া প্যাকেজিংয়ের এজিএম মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস।

সহ-প্রচার সম্পাদক সানজিদা ওমরা বলেন, গাজীপুর শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ কাজের সন্ধানে এখানে আসেন। বিশেষ করে যাঁরা গামেন্টে কাজ করেন তাঁদের বেশির ভাগই অল্প শিক্ষায় শিক্ষিত। তাঁদের মধ্যে সচেতনতার মারাত্মক অভাব। এ জন্য বেশির ভাগ শ্রমিক নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানেন না। জানেন না, রক্তদানের উপকারিতা। কিভাবে রক্ত দিতে হয়, কখন দিতে হয়। এটা জানার পরই গাজীপুর শুভসংঘের সভাপতির নেতৃত্বে ওই কারখানায় রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন হিশাম জানান, শুভসংঘের একদল স্বাপ্নিক তরুণের উদ্যোগে প্রতিটি জেলার আনাচে-কানাচে বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে শনিবার সকালে কাশপিয়া প্যাকেজিংয়ে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের কাজে নেমে পড়েন গাজীপুর শুভসংঘের বন্ধুরা। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে কার্যক্রম চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ওই দিন বিনা মূল্যে সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিকের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।

এ সময় কার্যক্রমে তিনি ও সংগঠনের সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর, প্রচার সম্পাদক আলভী হাসান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সদস্য আহসান হাবীব, নিলয় আহমেদ, তাহমিদ উর্মি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন আমিরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান। নিজেদের রক্তের গ্রুপ জানতে সকাল থেকেই ক্যাম্পে ভিড় করেন শ্রমিকরা। লাইনে দাঁড়ানো শ্রমিক সবুজ মিয়া জানান, তাঁর রক্তের গ্রুপ কী তা তিনি জানতেন না। আজ এখানে এসে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। একই অনুভূতি জানান ভবানীপুরের যুবক জাহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, ‘আজ আমি রক্তের গ্রুপ জানতে পারলাম। খুব ভালো লাগছে। আমি এখন বলতে পারি আমার রক্তের গ্রুপের নাম। ’

আয়োজকরা জানান, কারখানায় বা  দুর্ঘটনায় প্রায়ই শ্রমিকদের রক্তের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় রক্তের অভাবে মৃত্যু হয়। আবার গ্রুপ না জানা থাকায় গ্রুপ নির্ণয় করতে গিয়ে বিলম্ব হয়। মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই রক্তদানের মাধ্যমে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু রক্তের গ্রুপ না জানা থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হয়। অনেক শ্রমিকই জানেন না তাঁদের রক্তের গ্রুপ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অসচেতন। তাই সাধারণ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও তাদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন তাঁরা।

কাশপিয়া প্যাকেজিংয়ের এজিএম মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শুভসংঘ একটি জাতীয় সংগঠন। শুরু থেকেই সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে কাজ করছে জেনে ভালো লাগছে। আমি আনন্দিত। দেশব্যাপী তারা অনেক ভালো কাজ করে চলেছে। বিশেষ করে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী, দ্ররিদ্র মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব গ্রহণ, ঘর ও দোকান তৈরি করে দেওয়া, শীত-বন্যা খরায় শীতবস্ত্র, খাদ্য সহায়তা এবং দুস্থ নারীদের সেলাই মেশিন প্রদানের মতো কাজগুলো অত্যন্ত মানবিক। এবার রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং রক্তদানে মানুষকে উৎসাহী করে তোলার মতো মানবিক কাজগুলো চমৎকার ও ব্যতিক্রম। এসব কাজ দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। ’

শেয়ার করুন:

সর্বশেষ

সর্বাধিক জনপ্রিয়