মঙ্গলবার,  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

 

২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯ ,  ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ভাওয়ালের কন্ঠ :: Bhawaler Kontho - ভাওয়ালের খবর

সরকারি বিধিমালাকে উপেক্ষা করে উপবৃত্তিভোগীদের কাছ থেকে বেতন আদায়

প্রকাশিত: ১১:০৯, ১৭ নভেম্বর ২০২২

সরকারি বিধিমালাকে উপেক্ষা করে উপবৃত্তিভোগীদের কাছ থেকে বেতন আদায়

জামালপুর ডিগ্রী কলেজ

গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে জামালপুর ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জামালপুর ডিগ্রী কলেজ ১৯৬৭ সনে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে কলেজটি সুনামের সহিত পরিচালিত হলেও গত ১০ বছর যাবৎ উক্ত কলেজের অফিস সহকারী মো. লিটন ও রুবেলের যোগসাজশে কলেজের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পাওয়ার পরও সরকারি বিধিমালাকে উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন আদায় করে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দায়ের করলেও উপবৃত্তি পাওয়ার পর তাদের নিকট থেকে জোরপূর্বক কলেজ কর্তৃপক্ষ মাসিক বেতন আদায় করে নেয়, কিন্তু কোনো প্রকার রশিদ প্রদান করেন না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে কিছু দিন পর বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশ পত্র ধরিয়ে দেন।

আর মাসিক বেতন পরিশোধের পরও রশিদ না দেওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে পুনরায় মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হয়েছে যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও নীতিমালা বহির্ভূত। তাছাড়াও দীর্ঘ বছর যাবত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রশিদ বিহীন ভর্তি-ফরম ফিলাপ-পরীক্ষার ফ্রিসহ অন্যান্য ফ্রি বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়।

এ বিষয়ে ছাত্ররা প্রতিবাদ জানালে ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত টাকা অনেক শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে ফেরত প্রদান করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জামালপুর ডিগ্রী কলেজের মানবিক শাখার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফাতেমা বেগম বলেন, আমি উপবৃত্তিভোগী একজন শিক্ষার্থী, কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে আমার নিকট থেকে ১১ মাসের বেতন গ্রহণ করেছেন।

একই ক্লাসের শিক্ষার্থী মোসা. মাহাবুবা আক্তার বলেন, আমার কাছ থেকেও ২৪ মাসের বেতন নেয়া হয়েছে অদ্যাবধি কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে কোনো প্রকার রশিদ প্রদান করে নাই।

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমি কলেজের অধ্যক্ষের কাছে গেলে স্যার আমার সাথে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেন। এছাড়াও প্রায় ৮০ জন উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীর নিকট থেকে ৯/১২ মাস করে মাসিক বেতন আদায় করেছেন। তাদের কাউকেই কোনো প্রকার রশিদ প্রদান করেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ চন্দ্র দাস বলেন, বছরের শুরুতে কলেজে ভর্তি হওয়া সকল শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা উপবৃত্তির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠাই। উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা আমাদের কাছে আসতে বেশকিছু দিন সময় লাগে। সেই সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন আদায় করা হয়। চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার পর তাদের নিকট থেকে মাসিক বেতন গ্রহণ করা হয় না।

চূড়ান্ত তালিকা পাওয়ার আগে যাহারা মাসিক বেতন পরিশোধ করিয়াছে তাহারা আবেদন করলে পরিশোধ করা মাসিক বেতনের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন আদায় করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা আমার জানা নেই। আর এ পর্যন্ত উপবৃত্তিভোগী কোনো শিক্ষার্থীর বেতনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে কি-না? তা জানতে চাইলে তিনি বলেন- কেই টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করে নাই বিধায় ফেরত দেওয়া হয়নি।

পরে এ বিষয়ে কলেজের অফিস সহকারী লিটনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ কাজে আমি ও রুবেল দায়িত্ব পালন করেছি। কম্পিউটার অপারেটর রুবেল শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করেন। তিনি কত টাকা গ্রহণ করেছেন বা কত টাকার রশিদ প্রদান করেছেন তা আমি জানি না। শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে তাদের বিভিন্ন ফি বাবদ টাকা আদায় করে অফিস সহকারী রুবেল আমাকে যাদের নামে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তা বললে- আমি অনলাইনে তা এন্ট্রি করি। আমি হাতে কোনো টাকা নেই না। অনেক শিক্ষার্থীরাই সভাপতি বরাবর আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জামালপুর ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, কলেজের উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন নেওয়ার বিষয়ে কেউ আমার নিকট অভিযোগ করেনি। উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে যদি বেতন নিয়ে থাকেন তবে তারা আবেদন করলে তা ফেরত দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুর-ই-জান্নাত বলেন, উপবৃত্তিভোগী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মাসিক বেতন নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন:

সর্বশেষ

সর্বাধিক জনপ্রিয়