শনিবার,  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

 

৯ আশ্বিন ১৪২৯ ,  ২৭ সফর ১৪৪৪

ভাওয়ালের কন্ঠ :: Bhawaler Kontho - ভাওয়ালের খবর

বিএনপি আমলের ধর্ষণ-নির্যাতন ভুলেনি মানুষ

প্রকাশিত: ২২:২৩, ২০ জুলাই ২০২২

বিএনপি আমলের ধর্ষণ-নির্যাতন ভুলেনি মানুষ

বিএনপি আমলের ধর্ষণ-নির্যাতন ভুলেনি মানুষ

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা নারী ধর্ষণ, সংখ্যালঘুদের জায়গা জমি দখল, হত্যাসহ নানা অপকর্মে মেতে ওঠে। এ সময় জান বাচাঁতে অনেক সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে চলে যায়।

ভুলেনি পূর্নিমা রানীর কথা

পূর্নিমা রানী শীল । বয়স কতোই বা হবে ? অষ্টম শ্রেণীতে পড়ছে তখন । সবে নির্বাচন হয়েছে । বিএনপি জামাত জোট সরকার জয়ী হয়েছে । চাপ পড়ছে হিন্দু পাড়াগুলোর ওপরে। পূর্নিমা সেই রাতে বাড়িতেই ছিল । সদ্য বিজয়ী স্থানীয় নেতারা হামলা করলো মায়ের সামনেই ধর্ষণ করলো তাকে । এত মানুষ দেখে পূর্নিমার মা বলছিলো "বাবারা, আমার মেয়েটা ছোট তোমরা একজন একজন করে এসো, আমার মেয়ে মরে যাবে।"
আসলেও তাই, ওতটুকু মেয়ে, ১০-১২ জনের এক দল যদি পালাক্রমে ধর্ষণ করে, তবে মেয়ের বাঁচার আশা নিয়েই শংকা করতে হয় । অসহায় বাবা দেখলো মেয়ের ধর্ষণ, মা আকুতি করলো । ধর্ষিতা পূর্নিমা অবশ্য সে রাতে মরেনি । ধর্ষণের গ্লানি নিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়েছে।

ছবি রানীর কথা মনে আছে?
ছবি রানী আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। বাড়ি বাগেরহাটের রামপালে। ২০০২ সালের ২১ শে অগাস্ট তৎকালীন জোট বাহিনীর ক্যাডার দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। তৎকালীন ক্ষমতাসীন ক্যাডাররা ছবি রানীকে বাসস্ট্যন্ড থেকে কাপড় খুলে ফেলে। এরপর তাকে বি এন পি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর একের পর এক ক্যাডার দ্বারা তিনি ধর্ষণের শিকার হতে থাকেন। ধর্ষকরা ধর্ষণ করে ছবি রানীর গোপন অঙ্গে মরিচের গুড়া, বালি আর কাচের গুড়া ঢুকিয়ে দেয়। ছবি রানী যখন ধর্ষিত হচ্ছিল তখন পাশের দোকানে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা বিড়ি ফুঁকছিল। তার চিৎকারে সাধারন মানুষ তো দূরে থাক, পুলিশ ও সেদিন ফিরেও তাকায়নি ।

অমীয় রাণী দাস এখন ঢাকায়
চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জের উত্তর চরফ্যাশন গ্রামের টিকেন্দ্র চন্দ্র দাস ওরফে আইচা রাম দাসের স্ত্রী অমীয় রাণী দাস বাড়িঘর বিক্রি করে ঢাকায় অবস্থান করছে। নির্বাচনের প্রায় এক মাস পর চারদলীয় জোটের কিছু সন্ত্রাসী রাতে তাদের বাড়িতে দরজা প্রবেশ করে। এ সময় দশম শ্রেণী পড়ুয়া তার কন্যা শিল্পীকে সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা শুরম্ন হওয়ার পর শিল্পীর পিতা-মাতা তাকে দাসকান্দি গ্রামে চাচার বাড়ি পাঠায়ে দেয় বলে সন্ত্রাসীরা তাকে সে রাতে পায়নি। তবে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িঘর লুটপাট করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় এবং মেয়েকে ফিরিয়ে এনে তাদের হাতে তুলে দেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর পরিবারটি দুই মাস বাড়িছাড়া ছিল। পরে ভিটেমাটি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে আসে।

ধামাচাপা পড়ে গেছে বহু ঘটনা

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পরেরদিন সকাল থেকেই গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে হামলা চালায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা। তাদের অমানুষিক নির্যাতনে অসংখ্য পরিবার ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। গৌরনদী উপজেলার বিল্লগ্রামের ধর্ষণের শিকার এক নারী জানান, তিনি গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি কালিয়া দমন গুহর রাইস মিলে কাজ করতেন। নির্বাচনের পর বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে মিলটি বন্ধ করে দেয়। কয়েকদিন পর মিলটি চালু করতে গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

নির্যাতিত ওই নারী বলেন, পুলিশ তখন তার জবানবন্দী রেকর্ডসহ ধর্ষণের আলামত উদ্ধার করলেও আইনগত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।  এসব ঘটনার পর জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ভোলায় এক হিন্দু মেয়ে ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়। তখন সংসদে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতেই বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব সালাম তালুকদার ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন ‘মেয়েটার মনে হয় ফারটিলিটি খুব বেশি।’

শেয়ার করুন:

সর্বশেষ

সর্বাধিক জনপ্রিয়